বিপিএল সিদ্ধান্তে আলোচনায় বিসিবি-কোয়াব
বিপিএল সিদ্ধান্তে গত তিন দিনের ব্যবধানে দুবার বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
গত পরশু বৈঠকের পর ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলা নাসির হোসেন জানিয়েছিলেন, আলোচনায় তারা ‘সন্তুষ্ট’।
আজ একই ভূমিকায় সাইফ হাসান দাবি করেছেন, বিসিবির সঙ্গে তাদের ‘ফ্রুটফুল’ আলোচনা হয়েছে।
দুপুরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বিপিএল সিদ্ধান্তে বৈঠকের পর মিরপুরে সাংবাদিকদের সাইফ বলেন,
‘বিপিএল যেহেতু হচ্ছে না, অবশ্যই আমাদের একটি ক্ষতি হচ্ছে। তবে বিসিবি আমাদের জন্য খুব ভালো একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেছে, যেখানে শুধু বিপিএলের খেলোয়াড় নন; বরং আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের যত খেলোয়াড় আছেন, সবার জন্যই তা উপকারী হবে।’
বিপিএল না হলে ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, তা বিসিবির পক্ষ থেকেই বলা হবে বলে জানিয়েছেন সাইফ।
তবে বৈঠকের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে,
বিপিএল না হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিসিবির পক্ষ থেকে শুরুতে এককালীন কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ক্রিকেটাররা তা মানেননি।
ক্রিকেটারদের আয়ের সবচেয়ে বড় দুই উৎস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল নিয়ে এখন প্রতিবছরই অনিশ্চয়তার দোলাচল থাকে। সেটির স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন ক্রিকেটাররা।
বিসিবির টুর্নামেন্টগুলো থেকেই যেন ক্রিকেটাররা যথেষ্ট আয় করতে পারেন, তার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
প্রতি মৌসুমে চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বিসিবি—জাতীয় ক্রিকেট লিগে চার দিনের ও টি–টুয়েন্টি সংস্করণ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে চার দিনের ও এক দিনের সংস্করণ।
এই চারটি টুর্নামেন্টেই ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে। বিসিবিও ক্রিকেটারদের এই চার টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বোর্ড সভায় অনুমোদনের পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
বিপিএলের বিকল্প হিসেবে আলাদা কোনো টুর্নামেন্ট যে আয়োজন হচ্ছে না, তা নিশ্চিত করেছেন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনও।
সাংবাদিকদের মিঠুন বলেন,
‘বিপিএল না হওয়ায় বিকল্প কিছু করে খেলোয়াড়দের সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থা এখন নেই এবং সেটি হবেও না। বিপিএলের পরিবর্তে অন্য কিছু হচ্ছে না।’
বিপিএলের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া না গেলেও নতুন ব্যবস্থায় বৃহৎ পরিসরে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবেন বলে বিশ্বাস মিঠুনের,
‘আমরা শুধু ৫০-৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ১৫০-২০০ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে উপকৃত হতে পারে এবং বিষয়টি যেন টেকসই হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বছরের সাময়িক সুবিধার কথা চিন্তা না করে আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।’

