ম্যান সিটিকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে ১২০ বছরে প্রথম ট্রফি প্যালেসের
ম্যানচেস্টার সিটি ০ : ১ ক্রিস্টাল প্যালেস
ইংল্যান্ডের ১২০ বছরের পেশাদার ফুটবল ইতিহাসে এতদিন ক্রিস্টাল প্যালেসের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল দুইবার এফএ কাপের রানার আপ হওয়া।
ছিল না কোনো মেজর শিরোপা! ইংলিশ ফুটবলের এই টুর্নামেন্টেই ঘুচল ঈগলসদের শিরোপাখরা।
শনিবার (১৭ মে) ওয়েম্বলির ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে ম্যানচেস্টার সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার এফএ কাপের ট্রফি জিতল অলিভার গ্লাসনারের শিষ্যরা। প্যালেসকে শিরোপা জেতানো গোলটি করেছেন এবেরেচি এজে।
১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২০ বছরের ইতিহাসে এটিই প্যালেসের প্রথম কোনো বড় শিরোপা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে গোল আদায়ের চেষ্টা করে ম্যানচেস্টার সিটি। কয়েকবার কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েও পায়নি কাঙ্ক্ষিত গোলটি।
কোনোরকমে গোল খাওয়া ঠেকিয়ে রাখলেও বেশ চাপেই ছিল প্যালেস।
কিন্তু ম্যাচের ১৬ মিনিটে এক ধাক্কায় সব চাপ নামিয়ে ফেলে তারা। স্রোতের বিপরীতে অসাধারণ এক গোল আদায় করে ম্যাচে এগিয়ে যায় প্যালেস।
প্রতি–আক্রমণে দানিয়েল মুনোজের ক্রস থেকে গোল করে ক্রিস্টালকে এগিয়ে দেন এজে।
এই গোলের আগ পর্যন্ত কেবল একবার নিজেদের অর্ধ পেরিয়ে সিটির অর্ধে যেতে পেরেছিল প্যালেস। তবে আক্রমণ বিবেচনা করলে সেটিই ছিল প্যালেসের প্রথম আক্রমণ ও শট।
একটু পর অবশ্য ব্যবধান ২–০ করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি প্যালেস।
ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে সিটি। যথারীতি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর আক্রমণ চালিয়ে যায় তারা।
একবার হলান্ডের শট কোনো রকমে ফিরিয়ে দলকে গোল খাওয়া থেকে বাঁচান প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন।
মাঠের খেলায় কাছাকাছি গিয়ে না পারলেও পেনাল্টি থেকে সিটির সামনে সুযোগ এসেছিল সমতা ফেরানোর। কিন্তু ৩৬ মিনিটে সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি সিটি।
ওমর মারমুশের পেনাল্টি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়ে প্যালেসকে বাঁচিয়ে দেন হেন্ডারসন।
এরপর ৪৩ মিনিটে আরও একবার সিটির প্রচেষ্টার সামনে দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে যান হেন্ডারসন। এবার নিরাশ করেন জেরেমি ডকুকে।
শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় সিটিকে।
প্যালেসের এগিয়ে থাকার বেশির ভাগ কৃতিত্বই অবশ্য গোলরক্ষক হেন্ডারসনের। প্রথমার্ধেই তিনি সেভ করেন ৪টি শট।
বিরতির পরও দেখা মিলছিল একই দৃশ্যের। সিটির একের পর আক্রমণ কোনো রকমে ঠেকিয়ে লিড ধরে রাখছিল প্যালেস।
এর মধ্যে প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও স্রোতের বিপরীতে গোল করে বসে প্যালেস। যদিও সৌভাগ্যবশত সে যাত্রায় বেঁচে যায় সিটি।
প্যালেসের গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। গোলের খোঁজে থাকা গার্দিওলা ৭৬ মিনিটে মাঠে নামান অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আর্জেন্টাইন তরুণ ক্লদিও এচেভেরিকে।
৮৩ মিনিটে গোল করে ম্যাচের নায়ক হওয়ার সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে। কিন্তু এচেভেরির শটও ঠেকিয়ে দেন অবিশ্বাস্য ছন্দে থাকা হেন্ডারসন।
ম্যাচের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর সমতা ফেরাতে পারেনি সিটি।
শেষ পর্যন্ত ১২০ বছরে প্রথমবারের মতো বড় কোনো শিরোপা জিতে উল্লাসে মাতে প্যালেস।
ম্যাচে তখন শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা। গ্যালারিতে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সি পরে কাঁদছে এক শিশু। বোঝাই যাচ্ছিল, দলের ব্যর্থতার ভার নিতে না পেরে হতাশায় ভেঙে পড়েছে শিশুটি।
ছোট এই শিশুর কান্নাই যেন সিটির পুরো মৌসুমের প্রতিচ্ছবি। শূন্য হাতে হতাশা আর কান্নায় শেষ হলো ভুলে যাওয়ার মতো মৌসুমটা।