আর্সেনালকে হতাশায় ডুবিয়ে পাঁচ বছর পর ফাইনালে পিএসজি
পিএসজি ২:১ আর্সেনাল (দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজি ৩:১ ব্যবধানে জয়ী)
প্রথম লেগ ১-০ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের পথে এক পা এগিয়েই ছিল পিএসজি। দ্বিতীয় লেগে আজ ফ্যাবিয়ান রুইস ও আশরাফ হাকিমির ২-১ গোলে আর্সেনালকে হতাশায় ডুবিয়ে পাঁচ বছর পর ফাইনালে পৌঁছে গেল পিএসজি।
লন্ডনে প্রথম লেগে জয়ের পর আজ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগেও বিজয়ের হাসি হেসেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে আর্সেনালকে বিদায় করে পিএসজি বনে গেল ইন্টার মিলানের প্রতিপক্ষ।
আজ ম্যাচের আগে ইতিবাচক ফুটবলের বার্তাই দিয়েছিলের মিকেল আর্তেতা। তার দল শুরুটা করল ঠিক সেভাবেই।
চতুর্থ ও অষ্টম মিনিটে দুবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও পিএসজি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার প্রতিরোধে সাফল্য আসেনি।
বরং সময় গরানোর সাথে সাথে ছন্দ ফিরে পাওয়া পিএসজি দেখাল প্রাধান্য।
এর মধ্যে খিচা কাবারাস্কেইয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ১৭তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত পিএসজি। তবে গোলের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষাও করতে হয়নি।
২৭তম মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে দেন রুইস।
স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার ফ্রি কিক থেকে বক্সে আসা বল বুক দিয়ে নামিয়ে বুলেট গতির শটে জালে জড়ান। আর্সেনাল গোলকিপার বল নাগালেই পাননি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই রুইসের প্রথম গোল।
যে গোলে দুই লেগ মিলিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে নামার পর আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে আর্সেনাল। ৬৪তম মিনিটে গোলের প্রবল সম্ভাবনাও জাগান বুকায়ো সাকা। তবে তাঁর জোরাল শট এক হাত দিয়ে প্রতিহত করে দেন দোন্নারুম্মা।
দুই মিনিট বাদেই আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় পিএসজি। হাকিমির শট লুইস-স্কেলির হাতে লাগায় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকেরা।
কিন্তু ভিতিনিয়ার দুর্বল শট আর্সেনাল গোলকিপার ডেভিড রায়া রুখে দিলে ব্যবধান আর বাড়েনি।
অবশ্য এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় পিএসজি। বদলি হয়ে নামা উসমান দেম্বেলের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে জোরাল শটে বল জালে পাঠান হাকিমি।
দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজি এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।
পরাজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া আর্সেনালকে ৭৬ মিনিটেই কিছুটা স্বস্তি এনে দেন সাকা।
মারকিনিওসের সঙ্গে একপ্রকার শারিরীক লড়াইয়ে জিতে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার বল বাড়ান সাকার দিকে। প্রথম চেষ্টায় না পারলেও দ্বিতীয়বারে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।
৮০তম মিনিটে এই সাকাই আরেকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন।
ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে বল পেলেও দৌড়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বল মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে।
ম্যাচ শেষেরে বাঁশি বাজে আর্সেনালের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার হতাশা নিয়েই।
২০০৬ সালের পর আর্সেনালের আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলার অপেক্ষা বাড়ানোর রাতে পিএসজি আবারও ইউরোপ সেরা হওয়ার মঞ্চে।
২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্ন ভেঙেছিল তাদের।
পাঁচ বছর পরএবার অধরা সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ৩১ মে (শনিবার) মিউনিখের মাঠেই খেলবে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের বিপক্ষে।