পরাজয়ের শঙ্কায় ভীত অস্ট্রেলিয়া, চতুর্থ দিন সারাদিন ব্যাটিং করতে চায়
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ
পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশের ম্যাচটা পঞ্চম দিনে যাওয়ার সম্ভাবনা যে খুবই কম, আজ এই বিশ্বাস নিয়েই ঘরে ফিরে গেছেন ডারউইনের দর্শকেরা।
ভাবতে একটু অন্য রকমই লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট ম্যাচ চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে যায় যায় অবস্থা! আর সেই পালে হাওয়া দেওয়া দলটির নাম বাংলাদেশ!
স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া মনেপ্রাণে চাইছে যেন তা না হয়। কাল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসটা যেন এতটাই লম্বা হয় যে শেষ দিনেও অন্তত লড়াইটা করা যায়।
১৩ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে জশ হ্যাজলউড অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের সাফল্য পেলেন। সেই সাফল্য তিনি রাঙিয়েছেন ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে।
অথচ এমন উপলক্ষও মন খুলে উদ্যাপন করতে পারছেন না! দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নেই স্বীকৃত ৪ ব্যাটসম্যান।
হ্যাজলউডের কণ্ঠেও ব্যক্তিগত তৃপ্তি ছাপিয়ে দলের ঘুরে দাঁড়ানোটার সুরটাই বড়,
‘হ্যাঁ, ব্যক্তিগত সাফল্য পাওয়াটা অবশ্যই আনন্দের। তবে এই মুহূর্তে দলের পরিস্থিতি ও ম্যাচের প্রেক্ষাপটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সত্যি বলতে, মাঠে পেসারদের জন্য কাজটা বেশ কঠিন ছিল। শুরুর ৮ থেকে ১০ ওভারের সুযোগ বোলারদের কাজে লাগাতে হয়। এরপর বল পুরোনো ও নরম হয়ে গেলে বোলিং করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’
প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়ার সব উইকেট নিয়ে বিধ্বস্ত করে দেয় বাংলাদেশ।
কিন্তু এরপর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষা নিয়েছে অজিরা। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
এই লম্বা সময় বোলিংয়ের ধকলের একপর্যায়ে উইকেট পাওয়ার জন্য নাকী শুধু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভুলের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন অজি বোলাররা।
হ্যাজলউডের বলেন,
‘মূল লক্ষ্য ছিল চাপ তৈরি করা, যা আমরা কিছু জায়গায় আরও ভালোভাবে করতে পারতাম। প্রতিপক্ষের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ের কথা বাদ দিলেও প্রথম ভাগে রান তোলার গতি একটু বেশিই ছিল। টানা কিছু মেডেন ওভার দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব।’
চাপে রাখার কাজটা করতে না পারার আফসোসও দিন শেষে করেছেন হ্যাজলউড। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া ১৬১ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে।
হ্যাজউলড মনে করেন, ব্যাটিংয়ের জন্য এখনো ভালো উইকেটে যা তারা করতে পারেননি, তা করেই সফল হচ্ছেন বাংলাদেশের বোলাররা।
ডারউইনের উইকেটের ধরন নিয়ে হ্যাজলউডের মত,
‘উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। রান তোলার গতি কমিয়ে ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করাটাই এখন উইকেট নেওয়ার সেরা উপায়। এ ছাড়া নতুন বলের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে, গতকাল বিকেলে আমরা যা ভালোভাবে করেছিলাম।’
পরে তিনি কৃতিত্ব দেন বাংলাদেশের বোলারদের,
‘বাংলাদেশ নতুন বলে শুরুতেই দুটি দ্রুত উইকেট তুলে নিয়েছে। বলের শক্ত ভাব কমে গেলে খুব একটা সুবিধা দেয় না। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে রান আটকে সাফল্য পেয়েছে, যা এই উইকেটে সামনে এগোনোর সঠিক পথ।’
অস্ট্রেলিয়ার এখন চাওয়া আগামীকাল সারা দিন ব্যাটিং করা।
৪৩ রানে ক্যামেরন গ্রিন এবং ১৯ রানে অপরাজিত আছেন অ্যালেক্স ক্যারি।
তারা দুজন অপরাজিত থাকতেই লিড চান হ্যাজউলউড। পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা অস্ট্রেলিয়ার জয় নিয়ে এই আশাবাদী পেসার বলেন,
‘এই মাঠে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা বেশি না থাকায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, বলা কঠিন, তবে কিছু বল অসমান বাউন্স করছে। আমরা যদি আগামীকাল সারা দিন দীর্ঘ ব্যাটিং করতে পারি, তবে শেষ দিনে ১০ উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জয় পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো আমাদের মাথায় আছে এবং সে লক্ষ্যেই আমরা খেলছি।’


