কাবরেরার পদত্যাগ চাওয়া শাহীনকেই উল্টো কমিটি থেকে অব্যাহতি!
১৪ জুন প্রকাশ্যেই জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার পদত্যাগ চেয়েছিলেন বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন।
কিন্তু মাস না ঘুরতেই বাফুফে কাবরেরার পদত্যাগ চাওয়া শাহীনকেই উল্টো কমিটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে!
৪ জুলাই, শুক্রবার বাফুফে সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়ালের স্বাক্ষরিত চিঠি পেয়েছেন তিনি।
শাহীনকে অব্যাহতি দেওয়া চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ নেই।
নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ফুটবল উন্নয়নে সম্পৃক্ত থাকবেন এমন কথাই লেখার পাশাপাশি জাতীয় দল কমিটি থেকে অপসারণের বিষয়টি রয়েছে।
জাতীয় দল কমিটি বাফুফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি। এ সকল স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের মনোনয়ন কিংবা অব্যাহতির এখতিয়ার চেয়ারম্যানের রয়েছে।
বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় দল কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান, একজন ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য থাকবেন।
সেখানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কমিটির আকার বাড়িয়েছেন ১২ জনে।
শাহীনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এখন কমিটিতে ১১ জন রয়েছেন।
জাতীয় দল কমিটি ম্যাচ, টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, কোচিং স্টাফের মূল্যায়ন ও নিয়োগ নিয়ে কাজ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাফুফের নির্বাহী কমিটির কোনো সদস্যকে কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে এভাবে অপসারণ করা হয়নি।
সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন ১৪ জুন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কোচের বিদায় চাওয়ায় বাফুফের প্রায় সবাই বিব্রত হয়েছে, পাশাপাশি কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে জোরেশোরে।
সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীনের আগে বাফুফের কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে আরও দুই নির্বাহী সদস্য টিপু সুলতান ও মাহফুজা আক্তার কিরণের ওপর।
টিপু সুলতান ফেডারেশন কাপে রহমতগঞ্জ-বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচ রেফারি ছিনতাই করেছে বলে গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন।
নারী উইংয়ের প্রধান কিরণ বাটলার-সাবিনাদের দ্বন্দ্বের সময় বলেছিলেন বাটলারকে না নেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন তিনি, কিন্তু ফেডারেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি কমিটির সভায় কোচের চুক্তি নবায়ন করেছে। কিরণের এই মন্তব্য গোপীনয়তা ভঙ্গের শামিল।
পাশাপাশি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হওয়ারও বহিঃপ্রকাশ।
শাহীনকে জাতীয় দল কমিটি থেকে অব্যাহতি দিলেও টিপু সুলতান ও কিরণের ব্যাপারে বাফুফেকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি এখন পর্যন্ত।
প্রায় সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবলের দায়িত্বে হাভিয়ের কাবরেরা। ২০২৩ সালে সাফ ফুটবলের সেমিফাইনাল ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য নেই।
প্রাথমিক দল নির্বাচন, খেলোয়াড় বদল বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
হামজা চৌধুরি, সামিত সোমের মতো ফুটবলার বাংলাদেশ দলে যুক্ত হওয়ার পরও ভারত এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় না পাওয়ায় কোচের মুন্ডুপাত করছেন সবাই।
হংকং ম্যাচের আগে কোচের অব্যাহতি চাইছেন ফুটবলসংশ্লিষ্ট অনেকেই।