খেলার মাঠে সবার আগে
Nsports-logo

শনিবার, ৩০শে আগস্ট ২০২৫

শেষ হলো প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল, জুলাইয়ের ক্যাম্পে চমকের আভাস

শেষ হলো ‘বাফুফে নেক্সট গ্লোবাল স্টার’-নামে প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল। প্রথম দুই দিন ট্রায়াল হয় ‘ক্লোজ ডোরে’। তবে শেষ দিনে গ্যালারিতে ছিলেন দর্শক, আর প্রেস বক্সে ছিলেন সাংবাদিকরা।
আজ (১ জুলাই, মঙ্গলবার) দুপুরে বাফুফে সেই ট্রায়াল নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বলেছেন ট্রায়ালের ইতিবাচক দিকের কথা, দিয়েছেন জুলাইয়ের ক্যাম্পে চমকের আভাস।

জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বাদে অন্য সব বিচারকরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সাইফুল বারী টিটু একাই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

ট্রায়াল শুরুর আগে বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম যা বলেছিলেন আজ সংবাদ সম্মেলনে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টিটু সেটাই পুনরাবৃত্তি করেছেন।

তিনি বলেন,

‘এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া। যাদের বয়স মাত্র ১৮-১৯। তাদের উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখব। সামনে আমাদের বয়স ভিত্তিক ক্যাম্পে কোচরা এই ট্রায়ালের তথ্য বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়দের দেখবেন।’

আজকের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ফিরে একই কথার পুনরাবৃত্তির মধ্যে সামান্য একটু আভাস মিলেছে।

‘আমরা ট্রায়ালে আসা প্রত্যেক ফুটবলারকে নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করব। আমরা চোখে দেখেছি, আবার ভিডিও করা হয়েছে। সেগুলো দেখা হবে। পাশাপাশি ওয়াই স্কাউট কালকের ম্যাচের রিপোর্ট দেব। আমাদের সামনে এএফসি অ-১৭ টুর্নামেন্ট রয়েছে। এখানে ট্রায়ালে আসা অনেকেরই বয়সসীমা নেই। এএফসি অ-২৩ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি জুলাই মাসের শেষ দিকে শুরু হবে। সেখানে হয়তো ফুটবলারদের দেখা যেতে পারে’।

-বলেন টিটু।

শেষ হলো প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল, জুলাইয়ের ক্যাম্পে চমকের আভাস

সদ্য সমাপ্ত ট্রায়ালে ৪৯ জনের মধ্যে ২৫ জনের বয়স উনিশের বেশি। এদের মধ্যে কয়েকজন ফুটবলার যুব এশিয়ান কাপ ফুটবলের বাছাইয়ে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এএফসি অ-২৩ টুর্নামেন্টের বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ভিয়েতনামে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবার ফিফা উইন্ডোও রয়েছে।

সিনিয়র জাতীয় দলের অনেক ফুটবলারের বয়স ২৩ এর কম। তাদের অ-২৩ দলের জন্য বিবেচনা না করলে আরও বেশি সংখ্যক ফুটবলার প্রয়োজন পড়বে।
ফলে জুলাই থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত এক মাসের প্রাথমিক ক্যাম্পে ট্রায়ালে আসা একাধিক প্রবাসী ফুটবলার থাকতে পারেন।

শেষ হলো প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল, জুলাইয়ের ক্যাম্পে চমকের আভাস

ট্রায়ালে আসা ফুটবলারদের অনেকে ইউরোপ, আমেরিকায় বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন।
বাংলাদেশের ক্লাবগুলোই যেখানে বয়স ভিত্তিক দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে চায় না। সেখানে উন্নত বিশ্বের দেশের ক্লাবগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলোয়াড় ছাড়ে কি না সেটাও দেখার বিষয়।

ফুটবলার এবং অভিভাবকরা বাফুফের ফলাফলের আশায় রয়েছেন। কবে নাগাদ বাফুফে সংশ্লিষ্টদের বার্তা দেবেন সেটাই দেখার বিষয়।

সাংবাদিকরা দুই-তিন জন খেলোয়াড় নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করে মতামত চাইলেও টিটু সরাসরি মন্তব্য করেননি।
খেলোয়াড় নির্বাচন এবং জাতীয় দলের স্বার্থে কোয়ালিটির ক্ষেত্রে আপোসহীনতার বুলিই আওড়িয়েছেন টিটু,

‘সবাই বাংলাদেশি। কোয়ালিটির বিচারেই দলে আসার ও খেলার সুযোগ পাবে। আমার নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করব। একজনও যেন অবিচারের শিকার না হন। তারা সবাই আন্তরিকতা নিয়ে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এসেছেন। এজন্য পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই আবারও।’

সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ও স্থানীয় ফুটবলার নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকরাও এ নিয়ে নানান মতামত ব্যক্ত করেন।

শেষ হলো প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল, জুলাইয়ের ক্যাম্পে চমকের আভাস

প্রবাসী ট্রায়ালে সামাজিক মাধ্যমের চাপ টিটুরা নেননি বলে জানান,

‘স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাদের মতামত ব্যক্ত করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। এটা দারুণ, মিডিয়ার পাশাপাশি তারাও জবাবদিহিতা রাখছে। এতে চাপের কিছু নেই।’

এক ম্যাচের দেখায় প্রবাসীদের স্কিল, দক্ষতা, গতি, ফিটনেস, টেকনিক্যাল-ট্যাকটিক্যাল বিষয়ের পূর্ণতা, অপূর্ণতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া কঠিন। তবে দুই ম্যাচে অনেকের পায়ের কারিকুরি মুগ্ধ করেছে গ্যালারিতে আসা দর্শকদের।

বাফুফে প্রথমবারের মতো এই প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছে। এতে কিছু দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল।
সামনের বছর আরও সাংগঠনিকভাবে করা সম্ভব বলে মনে করেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy