ওয়েস্ট হ্যামের কাছে হার; শিরোপার দৌড়ে আরও পেছাল আর্সেনাল
অ্যাস্টন ভিলার মাঠে লিভারপুল ড্র করেছিল ২-২ গোলে। অলরেডদের পরের ম্যাচটাই আবার শক্তিশালী ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। এমন এক অবস্থায় ঘরের মাঠে ওয়েস্ট হ্যামকে হারাতে পারলেই লিগ লিডারদের একেবারেই হাতের নাগালে পেতে পারতো আর্সেনাল। সাম্প্রতিক ফর্ম কিংবা খেলোয়াড়দের প্রোফাইল, সব বিবেচনায় এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালই ছিল ফেভারিট।
কিন্তু গ্রাহাম পটারের ওয়েস্ট হ্যাম ছিল একেবারেই ভিন্ন ভাবনায়। জ্যারড বোয়েন বরাবরই বড় দলের বিপক্ষে পারফরম্যান্স দিয়ে স্তব্ধ করতে ভালোবাসেন। সেটার শিকার আজ হয়েছে আর্সেনাল। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে তার একমাত্র গোলে গানার্সরা হারল ১-০ গোলে।
এই ম্যাচের পর লিভারপুলের সঙ্গে আর্সেনালের ব্যবধান থাকল ৮ পয়েন্টই। ২৬ ম্যাচ শেষে অলরেডদের পয়েন্ট ৬১৷ আর সমান ম্যাচে মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের পয়েন্ট ৫৩। লিভারপুল আছে শীর্ষে, আর আর্সেনালের অবস্থান দুই। আর ৩০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৬তম স্থানে হ্যামার্সরা।
বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের খেলায় হতাশ করেছে আর্সেনাল। পুরো ৪৫ মিনিটে ৯ বার ওয়েস্টহ্যামের গোলবারে শট নিয়েছে। তারমাঝে লক্ষ্যে ছিল ১ শট। সেটাও ডিফেন্ডার রিকার্ডো ক্যালাফিওরির কল্যাণে। দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও গানার্স অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় খানিক পিছিয়েই ছিলেন। যার খেসারত দিয়েছে দল।
আর আর্সেনালের বাজে খেলার মাশুল দিতেই যেন প্রথমার্ধের শেষদিকে এগিয়ে যায় ওয়েস্টহ্যাম। নিজেদের বক্সের সামনে থেকে বলের দখল নেন বোয়েন। এরপর খানিকটা এগিয়েই পাস দেন অ্যারন ওয়ান-বিসাকাকে। ইংলিশ রাইটব্যাক ফাঁকা উইং ধরে এগিয়েছেন নির্বিঘ্নে। শেষ পর্যন্ত বক্সে দিয়েছেন মাপা পাস। গোলপোস্টের একেবারেই সামনে থেকে মিডফিল্ডার বোয়েন করেছেন সহজ ফিনিশ।
বিরতির পর সমতায় ফিরতে আগ্রাসী ফুটবল খেলার চেষ্টা করে আর্সেনাল। আর ওয়েস্ট হাম চেষ্টা করছিল প্রতি-আক্রমণে যাওয়ার। ৬২ মিনিটে সবচে ভালো সুযোগটাও পেয়ে যায় তারা। বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ড নিয়েছিলেন জোরাল শট। সেটা পা দিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক অ্যারেওলা। পিছিয়ে থাকা আর্সেনাল প্রতি মুহূর্তেই যেন একটু একটু করে পিছিয়ে পড়ছিল ম্যাচ থেকে। আর ৭৩ মিনিটে তাদের জন্য এলো বড় ধাক্কা।
কাউন্টার অ্যাটাক থামাতে গিয়ে ওয়েস্ট হাম মিডফিল্ডার মোহাম্মদ কুদুসকে ফেলে দেন আর্সেনালের লুইস-স্কেলি। প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচের বাকি সময় একজন কম নিয়ে ভালোই চেষ্টা করেছে আর্সেনাল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটি আর আসেনি।