আরও একবার রানের বন্যা দেখা গেলো আইপিএলে। বিশাল স্কোর করা হায়দরাবাদে কুপোকাপ রাজস্থান। রবিবার (২৩ মার্চ) আইপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪৪ রানে হারিয়েছে হায়দরাবাদ। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ভক্তদের হতাশই করেছে মুম্বাই। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছেন রোহিতরা।
বিস্ফোরক সব ইনিংস খেলে গত আসরেই নিজেদের আলাদাভাবে পরিচয় করিয়েছিলেন ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই দুই ওপেনার গতবার যেখানে শেষ করেছিলেন এবার ঠিক সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন।
আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ঝড় তোলেছেন তারা। তাদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি করেছেন ইশান কিশান। তাতে রানের পাহাড় গড়ে দল। হায়দরাবাদের সেই রান পাহাড়ে চাপা পড়েছে রাজস্থান রয়্যালস।
হায়দরাবাদে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৬ রান করেছেন ইশান। এ ছাড়া ফিফটি পেয়েছেন হেড। জবাবে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪২ রান করেছে রাজস্থান।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় রাজস্থান। ৫ বল খেলে ১ রানের বেশি করতে পারেননি ইয়াশভি জয়সাওয়াল। তিনে নেমে ব্যর্থ রিয়ান পরাগ। অধিনায়ক করেছেন ২ বলে ৪ রান। চারে নামা নিতিশ রানাও ব্যর্থ হয়েছেন। ১১ রানে রানা ফিরলে ৫০ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে দূরে সরে যায় রাজস্থান।
তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে সাঞ্জু স্যামসন ও ধ্রুব জুরেল দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। ৩৭ বলে ৬৬ রান করেছেন স্যামসন। আর জুরেলের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৫ বলে ৭০ রান। শেষদিকে শিমরন হেটমায়ার করেছেন ২৩ বলে ৪২ রান, আর ১১ বলে অপরাজিত ৩৪ করেছেন শুবম দুবে।
এর আগে হায়দরাবাদের ইনিংসের শুরুতেই বোলারদের ওপর চড়াও হন হেড ও অভিষেক। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চতুর্থ ওভারেই দলীয় ফিফটি স্পর্শ করে দল। ১১ বলে ২৪ রান করে অভিষেক ফিরলেও ফিফটি পেয়েছেন আরেক ওপেনার হেড।
মাত্র ২১ বলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তার এমন ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান তোলে দল। ফিফটির পর অবশ্য বেশিদূর এগোতে পারেননি হেড। তার ব্যাট থেকে ৩১ বলে এসেছে ৬৭ রান।
হেডের বিদায়ের পর নিতিশ কুমার রেড্ডিকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন ইশান কিশান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৭২ রান। ১৫ বলে ৩০ করে ফেরেন নিতিশ। এরপর ইশানের সঙ্গে যোগ দেন হেনরিখ ক্লাসেন। এই প্রোটিয়া করেছেন ১৪ বলে ৩৪ রান।
ক্লাসেন-রেড্ডিরা ইনিংস বড় করতে না পারলেও সেঞ্চুরি করেছেন ইশান। ৪৫ বল খেলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করেছেন তিনি। তাতে আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের সংগ্রহ পেয়েছে হায়দ্রাবাদহায়দ্রাবাদে।
চেন্নাই সুপার কিংসকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো কঠিন কাজ সন্দেহ নেই। তবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বরাবর প্রমাণ করেছে যে, ধোনিদের চিপকে হারানো অসম্ভব নয়।
আইপিএল ২০২৫-এর আগে পর্যন্ত এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে মোট ৯টি ম্যাচ খেলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ৬টি ম্যাচ জেতে এমআই এবং ৩টি ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হয় তাদের। অর্থাৎ, অ্যাওয়ে ম্যাচেও এক্ষেত্রে পাল্লা ভারি ছিল মুম্বইয়ের। শেষ পর্যন্ত মুম্বাই তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি।
২০১২ সালের পর থেকেই হার দিয়ে আইপিএল শুরু করে আসছে মুম্বাই। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৫৫ রান করে মুম্বাই। জবাব দিতে নেমে রাচিন রাবিন্দ্রা ও অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের ফিফটিতে ৫ বল আগেই জয় পায় চেন্নাই।
হারের দিনে এক রেকর্ড করেছে মুম্বাই। আইপিএলে ইতিহাসে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি স্পিন বোলিং করেছে দলটি। চিপকের স্লো উইকেটে কম রানের পুঁজিতে চেন্নাইকে আটকাতে ১৪ ওভার স্পিন বল করেছে সূর্যকুমারের দল।
১৯.১ ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে চেন্নাইয়ের জয় নিশ্চিত করেন রাচিন রবীন্দ্র। মুম্বাইহায়দ্রাবাদেয়ের ৯ উইকেটে ১৫৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায় চেন্নাই। অ
র্থাৎ, ৫ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে ম্যাচ জেতে সিএসকে। ৪৫ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন রাচিন রবীন্দ্র। তিনি ২টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন। ধোনি ২ বল খেলে নট-আউট থাকেন। তিনি কোনও রান করেননি। স্যান্টনার ২.১ ওভারে ২৪ রান খরচ করেন।